মরি-ঙ্গা পাতা বা সজনে পাতার চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে মরি-ঙ্গা কিনেছেন। এখন খেতে গিয়ে বি/শ্রী স্বাদের জন্য খেতে পারছেন না। বা কেউ কেউ বলছে, সাথে মধু মিশান তাহলে খাওয়া যাবে। মানে আরও অতিরিক্ত খরচ।
. এতো প্যারা না নিয়ে, যদি মরি-ঙ্গা খাওয়াও হয় আবার মরি-ঙ্গার সব উপকারও অর্জন হয়। তাহলে কেমন হয়!?
. এক্সাক্টলি, সেই চিন্তা থেকেই আমরা নিয়ে আসছি মরি-ঙ্গা ক্যা*পসুল ফরম্যাট। শুধু মুখে দিবেন আর পানি দিয়ে গিলবেন। That's all. ইজি সলুশন Ready to Eat. ]
না না, এটা কে শুধু অন্য দশটা মরি-ঙ্গার পাতার সাথে তুলনা করে, ভুল করবেন না। এটা হচ্ছে মরি-ঙ্গা পাতার এক্সট্র্যাক্ট বা নির্যাস। যা মেডিকেটেড ভাবে প্রস্তুত করা হয়।
মরিঙ্গা পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুষ্টিকর হার্ব। গবেষকরা বলে থাকেন নিউট্রিশনাল সুপার ফুড এবং মরিঙ্গা গাছকে বলা হয় মিরাকেল ট্রি।
🔹বিবরণ:
মরিঙ্গা ভিটামিন ও বিপুল পরিমাণে পুষ্টি -এর এক বিশাল উৎস। এতসব পুষ্টিগুণ একসাথে আছে বলেই এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জীবন ধারনের পুষ্টি দুটোই পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্য উপকারিতা:
প্রতি গ্রাম মরিঙ্গা পাতায় একটি কমলার চেয়ে সাত গুণ বেশি ভিটামিন সি, দুধের চেয়ে চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম ও দুই গুণ বেশি প্রোটিন, গাজরের চেয়ে চার গুণ বেশি ভিটামিন এ এবং কলার চেয়ে তিন গুণ বেশি পটাশিয়াম বিদ্যমান। ফলে এটি অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতা সহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতি জনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আয়রণ বিদ্যমান, যা এ্যানেমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
মরিঙ্গা শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও অন্যতম অবদান রাখে।
মানুষের শরীরের প্রায় ২০% প্রোটিন যার গাঠনিক একক হলো এমাইনো এসিড। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেটাবোলিজম এবং অন্যান্য শারীরবৃত্ত্বীয় কার্যাবলী পরিপূর্ণরূপে সম্পাদনে এমাইনো এসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানুষের শরীরের যে ৯ টি এমাইনো এসিড খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়, তার সবগুলোই এই মরিঙ্গার মধ্যে বিদ্যমান।
এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
নিয়মিত দৈনিক সেবন শরীরের ডিফেন্স মেকানিজমকে আরো শক্তিশালী করে এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ হওয়ার দরুন এটি ‘এইডস’ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এটি শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।
এটি মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই। পাতা থেকে তৈরি এক টেবিল চামচ মরিঙ্গা পাউডারে ১৪% প্রোটিন, ৪০% ক্যালসিয়াম, ২৩% আয়রণ বিদ্যমান, যা ১ থেকে তিন বছরের শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোকালীন সময়ে ৬ টেবিল চামচ পাউডার একজন মায়ের প্রতিদিনের আয়রণ এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
এটির এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে।
মরিঙ্গা-তে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।
এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রতিক্রিয়া: ডঃ লয়েল ফিউগিল এর মতে, দৈনিক মরিঙ্গা গ্রহণে কোন ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নেই।